
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার দক্ষিণ পানপট্টি এলাকায় প্রায় ৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ভবন নির্মাণ শেষ হয়েছে আট বছর আগে।
ভবন, শয্যা, আসবাবপত্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং চিকিৎসকদের জন্য আবাসিক ভবন—সবকিছু প্রস্তুত থাকলেও শুধুমাত্র চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় আজও চালু হয়নি হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার হাজারো মানুষ, বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশু, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে দক্ষিণ পানপট্টি এলাকায় প্রায় ৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে নির্মাণকাজ শেষ হয়। এরপর দীর্ঘ আট বছর পেরিয়ে গেলেও হাসপাতালটিতে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালটিতে রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় শয্যা, আসবাবপত্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং চিকিৎসকদের আবাসন নির্মাণ করা হলেও মেডিকেল অফিসার, সেবিকা, টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদায়ন হয়নি। বর্তমানে উন্নয়ন খাতের মাত্র একজন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে হাসপাতালটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
স্থানীয় সমাজসেবক ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা জানান, মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই সরকার এই হাসপাতাল নির্মাণ করেছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে না। কোটি টাকার স্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকায় জনমনে হতাশা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রসূতি মা ও শিশুদের চিকিৎসার জন্য এখনো গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়।