
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে কিছু কর্মকর্তা একই উপজেলায় কর্মরত থাকায় ঠিকাদার সিন্ডিকেটের সঙ্গে তাদের গভীর সখ্যতা গড়ে উঠেছে। আর এই যোগসাজশের সুযোগ নিয়ে কাজে অনিয়ম করছেন ঠিকাদারেরা অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এলজিইডি বাস্তবায়িত গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পগুলোতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, গর্ত ও ক্ষয়ের সৃষ্টি হচ্ছে। এসব কাজে কোনো নিয়ম বা যথাযথ তদারকি অনুসরণ করা হয় না বলে অভিযোগ তাদের।
পানপট্টি ইউনিয়নের রাব্বি তালুকদার জানান, প্রায় ১-২ মাস আগে একটি সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১০–১৫ দিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এমনকি রাস্তার প্রস্থও সর্বত্র সমান নয়, কোথাও কম, কোথাও বেশি।
গলাচিপা সদরের বাসিন্দা খলিলুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নতুন সংস্কার করা সড়ক খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এছাড়া একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদার বা তাদের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বারবার কাজ পাওয়ায় কাজের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’চিকনিকান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা দিপঙ্কর মালাকার জানান, ‘কিছুদিন আগে এলাকার একটি সংযোগ সড়ক সংস্কারের সময় নিম্নমানের (২ নম্বর ও পুরনো) ইট ব্যবহার করা হচ্ছিল। এলাকাবাসী তখন প্রতিবাদ জানিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়।’স্থানীয় সচেতন নাগরিক সাইমুন ইসলামের মতে, ‘সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কমে যায়। গলাচিপা এলজিইডির ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। দীর্ঘদিনের পরিচয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের একধরনের অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।’
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গলাচিপা উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সড়কের কার্পেটিং সাধারণত ৩ থেকে ৪ বছর টেকসই হওয়ার কথা। তবে এ অঞ্চলে ভালো মানের ইটের সংকট এবং মাটির গুণাগুণ কিছুটা খারাপ। অনেক সময় ঠিকাদাররা রাতে তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে ফেলে, যা আমাদের নজরদারিতে আসার আগেই সম্পন্ন হয়। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক চাপও থাকে।’
কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের সখ্যতার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কাজ দ্রুত বা সঠিকভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে ঠিকাদারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে হয়। তবে মানছি যে, দীর্ঘদিন এক কর্মস্থলে থাকাটা কাজের স্বচ্ছতার জন্য ইতিবাচক নয়।’তিনি আরও বলেন, ‘সড়কের নির্ধারিত ভারবহন ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত ওজনের যানবাহন চলাচল সড়ক নষ্ট হওয়ার একটি অন্যতম কারণ। এ বিষয়ে জনসচেতনতা প্রয়োজন।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’