
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী,প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো.দুলাল খা (৫২) ওপর হামলা ও মারধর করে গুরুতর আহত করেছে একদল দুর্বৃত্ত।
এসময় স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
সোমবার রাতে মাদ্রাসার সামনে ওই ঘটনাটি ঘটে। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চর কাজল ইউনিয়নের চর কপাল বেড়া গ্রামে ৯ নং ওয়ার্ড বাকি চাওয়াকে কেন্দ্র করে মারধর। স্থানীয়রা জানান, চায়ের দোকান ব্যবসায়ী ফিরোজ খা দোকান করেন। রাতে তার দোকানে সিগারেট বাকি চাইতে গেলে তিনি দিতে অস্বীকার করায় তাকে মারধর করে। তার ডাক চিৎকারে ইউপি সদস্য ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও মারধর করে। ইউপি সদস্যের স্ত্রী ছারাতে গেলে তাকেও মারধর করেন।পরে ওই রাতেই দোকান ব্যবসায়ী ফিরোজ খা ও ইউপি সদস্যকে স্থানীয় চিকিৎসা নিয়ে এলাকাবাসী উন্নত চিকিৎসার জন্য গলাচিপা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
দোকান ব্যবসায়ী ফিরোজ খা বলেন, আমার দোকানে রাত আনুমানিক নয়টার দিকে আমাদের একই গ্রামের রতন আলি খাঁ ছেলে রুবেল খা, মোতালেব খার দুই ছেলে মকবুল খা ও ফেরদৌস খা, ইউনুস খাওয়ার ছেলে ইমন খা একত্রিত হয়ে আমার কাছে সিগারেট বাকি চাই। আমি বাকি না দেওয়ায় সকলে একত্রিত হয়ে আমাকে মারধর করে। আমার ডাক-চিৎকার ইউপি সদস্য ঘটনাস্থলে এলে তাকেও মারধর করে। তার স্ত্রী এলে তাকেও মারধর করে। পরে স্থানীয়রা আমাদেরকে উদ্ধার করে গলাচিপা হাসপাতালে ভর্তি করে। তিনি আরো বলেন, এরা আমাদের এলাকায় মাদকের ব্যবসা করেন।এ বিষয়ে ইউপি সদস্য দুলাল খা বলেন, ব্যবসায়ী ফিরোজ খার ডাক চিৎকারে আমি ঘটনাস্থলে গেলে আমাকে মারধর করে। পরে আমার স্ত্রী হেনা বেগম কেউ মারধর করে। প্রশাসনের কাছে এদের বিচার চাই। ইউপি সদস্যের স্ত্রী আহত হেনা বেগম বলেন, আমার স্বামীকে ও আমাকে যারা মেরেছে সাংবাদিকের মাধ্যমে এদের সঠিক বিচার চাই। এরা কপাল ভেরা বাজারের চিহ্নিত মাদকের ব্যবসা করেন এদের ভয়ে কেউ কথা বলে না। আহত ইউপি সদস্য হচ্ছেন কপাল বেড়া গ্রামের বাদশা খা ছেলে। আহত দোকান ব্যবসায়ী হচ্ছেন কপালবেরা গ্রামের মৃত কাঞ্চন আলী কার ছেলে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার নোমান পারভেজ বলেন, আমার চিকিৎসা দিনে দ্বিতীয় তলায় ১০ ও ১১ নং বেডে ভর্তি আছে। ইউপি সদস্যের শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুল ও কালো কালো দাগ রয়েছে।এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ রুবেল খা ও মকবুল খার কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে জানতে চাইলে তাদের ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে চরকাজল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান মোল্লা বলেন, ইউপি সদস্যের গায়ে হাত দেওয়ায় তীব্র নিন্দা জানাই। তিনি আরো বলেন, এ কাজ যারা করেছেন তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। গলাচিপা থানা অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।