
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
গফরগাঁও-মাওনা সড়ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় গড়ে উঠেছে শক্তিশালী দালাল দুর্নীতিবাজ চক্র।
এলএ কেস নম্বর- ১০/২৪-এর আওতায় অধিগ্রহণকৃত জমি এবং স্থাপনা ক্ষতিপূরণের বিল প্রদান নিয়ে চলছে চরম দুর্নীতি অনিয়ম ও পুকুরচুরি। অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালাল চক্রের বন্টন বাণিজ্যের সিন্ডিকেটের কারণে অস্বাভাবিক মূল্যে নির্ধারণ করা স্থাপনাগুলো তিন ভাগের একভাগ দালাল শ্রেণী, একভাগ ভূমি ও স্থাপনার মালিক, একভাগ অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য নির্ধারণ হলেই ফাইল দ্রুত চলে এমনটাই জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি ও স্থাপনার
মালিক পক্ষ।
ফাইল নড়াচড়া এক টেবিল থেকে অন্য টেবিল নীচ তলা থেকে উপর তলা আবার নিচ তলায় এমন দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মচারীরা (আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ) টাকার কুমির হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভূমি ও স্থাপনার ক্ষতিপূরণের চেক উত্তোলনে নানা আইনি জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে একশ্রেণীর দাদন ব্যবসায়ী (দালাল) নানা ছলচাতুরী করে ভূমি ও স্থাপনার প্রকৃত মালিকদের নিকট থেকে লিখিত ভাবে ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়ে ৮ ধারার নোটিশে যুক্ত হয় এবং চেক গ্রহণ করে খরচ বাদে তিন ভাগের এক ভাগ অর্থ মালিক পক্ষকে দিয়ে সমূদয় টাকা দালাল শ্রেণী লুপাট করে নিয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারীরা এই দালালদের কদর ও সমীহ করে থাকেন। অবাধে অফিসে আসা যাওয়া করতে দেখা চটকদার কথা শুনে ভূক্তভোগীরা দালালদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যায়, বিরম্ভনা থেকে রেহাই পেতে সামান্য অর্থের বিনিময়ে ঐ সকল দালালদের চেক গ্রহণের ক্ষমতা প্রদান করা হয় ভারাক্লান্ত মনে জানালেন একাধিক ভূক্তভোগী।
বিপুল অংকের টাকা হাত ছাড়া হলেই বা সম্ভাবনা দেখা দিলেই আমাদের গনমাধ্যমের কর্মীদের স্মরণার্থে আসেন ভূক্তভোগী পক্ষ দুর্নীতি অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন, বিভিন্ন ডকুমেন্ট সাংবাদিকের হাতে তুলে দেন। তখন ভূক্তভূগি বলতে থাকেন ভূমি অধিগ্রহণের সংবাদ শুনেই অস্থায়ী সৃজন করা কতগুলো স্থাপনা দেখিয়ে অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের ম্যানেজ করে কে বা কারা কত লক্ষ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে স্থাপনা গুলোর অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ করিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকার অপচয় করে অর্থ লুপাট করছে। সাধারণ ভূমি ও স্থাপনার মালিকদের নানা রকম ভোগান্তি মাসের পর মাস শুনানির নামে হয়রানি এক পর্যায়ে দালালদের সংযুক্ত করা হচ্ছে। ভূক্তভোগী একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিক
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ও স্থানীয়রা জানান, এলএ অফিসের একাধিক অসাধু কর্মচারীদের সাথে পেশাদার দালালদের লেনদেনের অলিখিত চুক্তি রয়েছে। দালালদের ফাইল চালাচালি হয় দ্রুত। ঘুষের টাকা না পেলে ফাইল নড়াচড়া করে না, ভূক্তভোগীরা তার ফাইল কোথায় আছে জানতে চাইলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারী ব্যস্ততার অজুহাতে বলতে নারাজ।
একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ এই চক্রের সাথে যুক্ত রয়েছেন: এলএ অফিসের সার্ভেয়ার: জসিম, ফয়সাল ও মালেক, অফিস সহকারী: মোবারক ও ফারুক
পিয়ন: শুভ এদের অশোভন আচরণ, দায়িত্ব ও কর্তব্য কাজে অধিগ্রহণ সংশ্লিষ্ট ভূমি ও স্থাপনার নিরীহ গ্রামের মালিকদের অসহযোগিতার অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে সার্ভেয়ার জসিম ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, "আমি অফিসে আছি, অফিসে এসে কথা বলেন।" অপর সার্ভেয়ার মালেক পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, "এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।" সার্ভেয়ার ফয়সালের ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে, অফিস সহকারী মোবারকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঔদ্ধত্য দেখিয়ে বলেন, "আমার অশোভন আচরণ দুর্নীতি আমার কর্তৃপক্ষ দেখবে, আপনি কে?" অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোবারকের বিরুদ্ধে পূর্বেও গণমাধ্যমে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছিল। জানা যায় মোটা অঙ্কের ঘুসের বিনিময়ে তিনি পুনরায় একই কর্মস্থলে ফিরে আসেন। এ ছাড়া অফিস সহকারী ফারুক ও পিয়ন শুভর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।
৮ ধারায় সংযুক্ত দালালদের নামে নোটিশ ইস্যু এবং শুনানি করার বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে, একাধিক মালিকের নাম থাকা সত্ত্বেও তাদের নাম নোটিশে না থাকা এ বিষয়ে নিয়ম মেনে আপত্তি দাখিল করলেও, সেই আপত্তির শুনানি না করেই ভূমি ও স্থাপনার লক্ষ কোটি টাকার বিল পাস করে সকল মালিকদের না ডেকে দালাল এর হাতে চেক হস্তান্তর করলে প্রকৃত মালিক পক্ষ আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে অভিযোগ উঠেছে। পোড়াদিয়াটেক অবকাঠামো নলকূপ এর ছয়জনকে নামকাওয়াস্তে টাকা দিয়ে কোটি টাকা বন্টনের পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দেড় বছরে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ!
অভিযোগ রয়েছে, গত দেড় বছরে এই কার্যালয়ে কর্মরত থাকার সুবাদে এই চক্রের একেকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রায় শত কোটি টাকারও বেশি অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন পর্যাপ্ত গাড়ী বাড়ী সম্পদের মালিক হয়েছেন।
ভূমি মালিকদের হয়রানি বন্ধে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিক ও স্থানীয় সচেতন মহল। তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতির মাধ্যমে গড়ে তোলা কালো টাকার পাহাড় অনুসন্ধান, দোষী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত ভূমি মালিকদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন অধিগ্রহণ সংশ্লিষ্ট ভূক্তভোগীগণ ।