

প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক | গফরগাঁও, ময়মনসিংহ।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র প্রার্থীরপক্ষে কাজ করার অভিযোগে উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাংবাদিক আয়নাল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি অভিযোগ করেছেন,ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,নির্বাচনের আগের রাতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক ঘটনায় আহত ব্যক্তির মামলায় অর্ধশতাধিক তৃণমূল বিএনপি'র নেতাকর্মীসহ তাকে আসামি করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমান-এর নির্বাচনী প্রচারণায় কাজ করার অভিযোগ এনে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে জড়িয়েছে।
সাংবাদিকের দাবি: মতপ্রকাশ দমনে এ মামলা।
আয়নাল ইসলাম বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশ নেওয়ার কারণে অতীতে একাধিকবার মামলা ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন।
তার দাবি,
“স্বাধীন মতপ্রকাশের কণ্ঠরোধ করতে পরিকল্পিতভাবে আমাকে মারামারির মামলায় জড়ানো হয়েছে।”
তিনি জানান, ১৯৯৮ সাল থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় এবং ২০০১ সালের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের কারণে আট বার গ্রেপ্তার হন। এমনকি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও একসময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন।
সাংবাদিকতা জীবন
২০১৭ সালে তিনি এশিয়ান টেলিভিশনের গফরগাঁও উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক আজকের খবর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার এবং একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত আছেন বলে জানান।
তার ভাষ্য, বিভিন্ন সময় সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন এবং অতীতেও তাকে মিথ্যা মামলায় জেল খাটতে হয়েছে।
তদন্তের দাবি
আয়নাল ইসলাম নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন,
“সাংবাদিকের অস্ত্র কলম, আর সন্ত্রাসীদের অস্ত্র মিথ্যা মামলা—এভাবে চললে সমাজের ক্ষতি ছাড়া কোনো কল্যাণ হবে না।”
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, নির্বাচনী বিরোধের জেরে মামলা হয়ে থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি।
গফরগাঁওয়ের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ সত্য নাকি প্রতিহিংসামূলক—তা নির্ধারণে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের ওপরই এখন সবার দৃষ্টি।