
প্রকাশিত
আয়নাল ইসলাম, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে শীলা নদীর ওপর রেলসেতু পার হওয়ার সময় মোটরসাইকেলসহ নিচে পড়ে, সোহাগ মিয়া (৩২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার মশাখালী ইউনিয়নের হাওয়াখালী গ্রামের পাশের শীলা নদীর রেলসেতুতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সোহাগ মিয়া গফরগাঁও উপজেলার উথুরী গ্রামের আহসান উল্লাহর বড় ছেলে। তিনি একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাওরাইদ এলাকা থেকে মোটরসাইকেলযোগে ফেরার পথে শীলা নদীর ওপর রেলসেতু পার হচ্ছিলেন সোহাগ।
এ সময় মোটরসাইকেলসহ সেতুর ওপর থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে মশাখালী ডা. রফিকুল ইসলাম দুলাল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতুতে পারাপার, স্থায়ী সমাধানের দাবি,
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শীলা নদীর ওপর রেলসেতুটি দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। হাওয়াখালী, গোলাবাড়ি, পাইথল, ডিমাইল, কাওরাইদ, লংগাইর ও মশাখালীসহ গফরগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকার মানুষ প্রতিদিন এ সেতু দিয়ে চলাচল করেন। তাঁদের দাবি, বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই রেলসেতুটি পার হতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রতি বছর এ সেতুতে দুর্ঘটনায় তিন থেকে পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটে। তবে এ পরিসংখ্যানের কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা হালিমুদ্দিন বলেন, “শীলা নদীর রেলসেতু দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু পথচারীদের নিরাপদে পারাপারের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘদিন ধরে এখানে একটি বিকল্প সড়ক বা পথচারীদের চলাচলের উপযোগী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু এখনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।”
তিনি আরও বলেন, গফরগাঁওয়ের সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান বাচ্চুর কাছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আকুল আবেদন, শীলা নদীর ওপর একটি নিরাপদ বিকল্প সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে গফরগাঁও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার বিষয়টি তারা শুনেছেন। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একজন মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আবারও সামনে এসেছে শীলা নদীর রেলসেতুতে নিরাপদ পারাপারের সংকট। স্থানীয়দের দাবি, আরও প্রাণহানি ও দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত পথচারীদের জন্য পৃথক নিরাপদ সেতু কিংবা বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা করা হোক।