
প্রকাশিত
ওসমান গনি
গজারিয়া প্রতিনিধিঃ
মুন্সিগঞ্জে গজারিয়া উপজেলা ৭৩ বছর বয়সী এক কৃষককে বাড়ির গোয়ালঘরে ঢুকে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই কৃষকের বাম পায়ের হাঁটুর নিচের হাড় ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সংবাদ সম্মেলন করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
আহত কৃষকের নাম খোকন মিয়া (৭৩)। তিনি গজারিয়া উপজেলার নতুন চরচাষী এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় কৃষক।
পরিবারের অভিযোগ, গত ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাঠ থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে খোকন মিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশীদের তর্ক-বিতর্ক হয়। এর জের ধরে রাত আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটের দিকে মো. মজিবুর রহমান (৪০), নজরুল (৪০), মো. নিজা (৩২), বিল্লাল হোসেন (২৩), মো. সোহান (২১), আজিজুল ও জামাল (৩০), আলামিন (৩৫), রজ্জব আলী (২৫), মো. শুভ (২০), মো. ফরহাদ (২১), মো. ইয়াকুব (১৯), মো. রোমান (২১) ও মইকাসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়ির গোয়ালঘরে প্রবেশ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, এ সময় মজিবুর রহমান লোহার রড দিয়ে খোকন মিয়ার মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করলে তা তাঁর মুখে লাগে। নজরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁর বাম পায়ে আঘাত করলে হাঁটুর নিচে হাড় ভেঙে যায়। পরে কয়েকজন মিলে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন।
খোকন মিয়াকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী কোহিনুর বেগম (৪৫), ভাতিজি কনিকা আক্তার (১৬), প্রতিবন্ধী ছেলে রিফাত মিয়া (২১), পুত্রবধূ মুক্তা আক্তার (৩৩) এবং ইলমা আক্তার (২২)।
পরিবারের অভিযোগ, হামলার সময় আলামিন কোহিনুর বেগমের গলায় থাকা প্রায় আট ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, নিয়ে যান। এছাড়া শুভ মুক্তা আক্তারের পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে আহতরা গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন। খোকন মিয়ার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
সংবাদ সম্মেলনে খোকন মিয়া বলেন, “আমি কোনো ঝামেলা করতে চাইনি। আমাকে এভাবে মারধর করা হয়েছে। আমার পা ভেঙে গেছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
আহত রিফাত মিয়া, কোহিনুর বেগম, ইলমা আক্তার ও মুক্তা আক্তারও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ ঘটনায় খোকন মিয়ার ছেলে রাকিবুল ইসলাম রাকিব (২৫) বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে মারধর, গুরুতর জখম, স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়া, শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে গজারিয়া থানা পুলিশ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে জানা গেছে।