
প্রকাশিত,১৫, নভেম্বর,২০২১
পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে ভয়াল সিডর দিবস পালন করা হয়েছে।
সোমবার ( ১৫ নভেম্বর) সন্ধা সাড়ে ৬ টায় কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্টে ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) এর উদ্যোগে মোমবাতি প্রজ্বলন করে "সিডর" লিখে ২০০৭ সালের সেই ভয়াল সিডরে নিহতদের স্বরন করে টোয়াক সদস্য, ট্যুরিস্ট পুলিশ, ট্যুর গাইড, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের অংশ গ্রহণে দিবসটি পালন করা হয়। মোমবাতি প্রজ্বলন শেষে সিডরে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রাঙ্গাবালী উপজেলার বাসিন্দা মোঃ দেলোয়ার বলেন, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছিলো। একটু পর পর বাতাসের দিক পরিবর্তন হইতে। পরিস্থিতি খারাপ দেখে পরিবারের অন্যদের সাইক্লোন সেন্টারে পাঠিয়ে দিয়েছি। সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে বাতাসের গতি বারতে থাকে। কোনকিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখি বেড়িবাঁধ ভেঙে বাড়িতে পানি এসে গেছে। বাড়ির উঠানে মহিষ বাধা ছিলো। সেই মহিষ ছেড়ে দিয়ে আমি ঘরে যেতে পারিনি আমাকে পানিতে ভাসিয়ে পাসের একটি গ্রামে নিয়ে গেছে । পরে একটি ছৈলা গাছ ধরে ছিলাম বাতাসে গাছ নাড়াচাড়া করছে এতে দুহাত ও বুকের চামড়া উঠে গেছে। সকালে বাড়িতে গিয়ে দেখি ঘর- দরজা কিছুই নাই সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সিডর বাড়ির গাছগুলো সব পরে গেছে। এতে অনেক মানুষ, মহিষ, গরু ও ছাগল মারা গেছে।
মোঃ হিরোন হাওলাদার বলেন, নভেম্বরের প্রথম দিকে আমার বাবা জেলেদের সাথে সাগরে গিয়েছিলো। ১৫ নভেম্বর সিডরে নিখোঁজ হয়েছে আর ফিরে আসেনি। অনেক খোজাখুজি করেছি লাশটাও পাইনি ।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোন'র পুলিশ পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, ২০০৭ সালে এই দিনে উপকূলীয় মানুষের জীবনে নেমে আসে ভয়াল একটি দিন। আমরা টোয়াকের সাথে টুরিস্ট পুলিশ একসাথে ওই দিনে নিহতদের স্বরনে দিবসটি পালন করছি। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সাধারণ সম্পাদক জেনারেল আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, প্রলয়ংকারী ঘুর্ণিঝড় সিডরের কথা শুনলে আজও কেঁপে ওঠে মানুষ । সিডরের ভয়াবহতায় উপকুলের মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।ক্ষতি হয়েছে সুন্দরবন সহ উপকুলের সবুজ বেস্টনী এবং পশু পাখি। সিডরের পর থেকে যেকোন ঝড় বন্যার কথা শুনলেই এখন আতকে ওঠে উপকূলের মানুষ ।
তিনি আরও বলেন, উপকূলের মানুষ আজকের দিনটিকে চিরদিন মনে রাখবে। কারন এই দিনে হাজার হাজার মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে ভয়াল সিডর। সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার আজও সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। সরকারের কাছে অনুরোধ উপকূলীয় মানুষের দিকে যেন বিশেষ নজর রাখে, যাতে এইরকম দিনের আর সৃষ্টি না হয়। উপকুলের মানুষের দাবী টেকসই বেরীবাধঁ নির্মাণ।
কি হয়েছিল সেদিন!
১৫ নভেম্বর ২০০৭ সালের এই দিন রাত নয়টায় পটুয়াখালীর উপকূলে আঘাত হানে সুপার সাইক্লোন ঘূর্নিঝড় সিডর। কেড়ে নেয় জেলার ৬৭৭ জন মানুষের প্রাণ। আহত হয় প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মানুষ, যাদের মধ্যে ২ হাজার মানুষ হয়েছে প্রতিবন্ধী। এখনও নিখোঁজ রয়েছে প্রায় অর্ধ শতাধিক মানুষ। বিধ্বস্ত হয় ৫৫ হাজার ঘর-বাড়ি, দেড় হাজার মসজিদ-মন্দিরসহ ৩৫১টি স্কুল ও কলেজ। নষ্ট হয়ে যায় প্রায় ৫ লক্ষ একর ফসলি জমি। বিলীন হয়ে যায় ২৫০ হেক্টর বনাঞ্চল। মারা যায় প্রায় ১৮ হাজার গবাদি পশু। ৪১২টি ড্রেনেজ স্লুইজসহ বিধ্বস্ত হয় কয়েশ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ।
সিডরের তেরো বছর অতিবাহিত হলেও পটুয়াখালীতে ভেঙে যাওয়া বেরিবাঁধের অধিকাংশই এখনও রয়েছে অরক্ষিত। নির্মান হয়নি পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার।
আবদুল কাইউম
পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ