
প্রকাশিত,১৪, জুন,২০২১
ফয়সাল চৌধুরী, কুষ্টিয়াঃ
কুষ্টিয়ার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি শেষে আসামি পুলিশ কর্মকর্তা সৌমেনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
কুষ্টিয়ায় তিন খুনের ঘটনায় করা মামলার একমাত্র আসামি সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সৌমেন রায় আজ সোমবার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বেলা সোয়া একটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত কুষ্টিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এনামুল হকের খাসকামরায় তাঁর জবানবন্দি নেওয়া হয়।
এর আগে বেলা ১টার দিকে পুলিশের কড়া পাহারায় সৌমেন রায়কে আদালত চত্বরে নেওয়া হয়। এ সময় সৌমেনের মাথায় হেলমেট, শরীরে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং দুই হাত পিঠমোড়া করে হাতকড়া পরানো ছিল। আজ সোমবার দুপুর ১ টা ১০ মিনিটের দিকে আসামি সৌমেনকে আদালতে নেওয়া হয় । সেখানে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এনামুল হকের খাসকামরায় তাঁর জবানবন্দি নেওয়া হয়।
আদালতের পেশকার এম এ আলীম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, জবানবন্দির পর সৌমেন রায়কে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে বেলা একটার দিকে পুলিশের কড়া পাহারায় সৌমেন রায়কে আদালত চত্বরে নেওয়া হয়। এ সময় সৌমেনের মাথায় হেলমেট, শরীরে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং দুই হাত পিঠমোড়া করে হাতকড়া পরানো ছিল। তাঁকে দ্রুত বিচারকের খাসকামরায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে রবিবার(১৩ মে) কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের কাস্টমস মোড়ে গুলি করে তিনজনকে হত্যা করা হয়।
এই তিনজন হলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের ভড়ুয়াপাড়া গ্রামের আমির আলীর মেয়ে আসমা খাতুন (৩৪), আসমার ছেলে রবিন (৬) ও একই উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের সাওতা গ্রামের শাকিল খান (২৩)। রবিন আসমার সাবেক স্বামীর সন্তান।
তিনজনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে আসমার তৃতীয় স্বামী এএসআই সৌমেন রায়কে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার সৌমেনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আসমার সঙ্গে শাকিলের সম্পর্ক ছিল। এর জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্যে গুলি করে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় আটক এএসআই সৌমেন রায়কে রবিবার বিকালে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় খুলনা রেঞ্জ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। খুলনা রেঞ্জের দুজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ কুষ্টিয়ায় এক পুলিশ কর্মকর্তা তদন্ত কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানায়।
সূত্রটি আরো জানায়, সৌমেন রায় ২০১৫ সালে কনস্টেবল থেকে এএসআই পদে উন্নীত হন। পরে ২০১৬ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানায় যোগ দেন। সেখান থেকে জেলার অন্যান্য থানায়ও কর্মরত ছিলেন। সর্বশেষ মিরপুর থানার হালসা ক্যাম্পে ছিলেন। এরপর বাগেরহাট হয়ে খুলনা ফুলতলা থানায় যোগ দেন।
এ দিকে রবিবার বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত তিনটি লাশের ময়নাতদন্ত করেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তাপস কুমার সরকার। সন্ধ্যা সাতটার সময় তিনি গণমাধ্যমকে জানান নিহত ৩ জনকেই দুটি করে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, শাকিল খানের ময়নাতদন্ত তাঁর মাথার বাম পাশে গুলি করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর ডান পায়ের ঊরুতে গুলির চিহ্ন রয়েছে। আসমা খাতুনের ময়নাতদন্তে আসমার মাথা ও গলায় গুলির চিহ্ন রয়েছে। শিশু রবিনের (৬) ময়নাতদন্তে রবিনের মাথায় ও পিঠে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে কারও গুলিই পাওয়া যায়নি। গুলিগুলো শরীর ভেদ করে বাইরে চলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, রবিনকে দৌড়ে পালানোর সময় পেছন থেকে পিঠে গুলি করা হয়। এরপর পড়ে গেলে তার মাথায় গুলি করা হয়।
এদিকে আসমার তৃতীয় স্বামী এএসআই সৌমেন রায় জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে বলেছেন, রোববার ভোরে তিনি খুলনা থেকে বাসযোগে কুষ্টিয়ায় আসেন। এ সময় তিনি তাঁর পিস্তল ও দুটি ম্যাগাজিনে ১২টি গুলি সঙ্গে নিয়ে আসেন।
তাঁর স্ত্রী আসমার সঙ্গে শাকিলের সম্পর্ক ছিল। এ জন্য তিনি তাঁর স্ত্রীর ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। রোববার সকালে তিনি কুষ্টিয়া শহরের বাবর আলী গেটে আসমার মায়ের বাসায় পৌঁছান। এর আগে রাতেই আসমাকে তাঁর গ্রামের বাড়ি থেকে কুষ্টিয়া শহরে আসার কথা বলেছিলেন। সকালে আসমা ও তাঁর ছেলেকে নিয়ে খুলনায় যাওয়ার কথা বললে আসমা যেতে অস্বীকার করেন। আসমা তাঁকে জানান, তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেন না, এমনকি শাকিলের সঙ্গেও না। এ সময় তিনি শাকিলকে ফোনে শহরের কাস্টমস মোড়ে আসতে বলেন। এদিকে আসমা ছেলেকে নিয়ে রিকশাযোগে কাস্টমস মোড়ে পৌঁছায়। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে প্রথমে শাকিলকে গুলি করেন তিনি। এরপর আসমাকে গুলি করেন। এ সময় শিশু রবিন দৌড়ে পালাতে গেলে তাকেও গুলি করেন। একটি ম্যাগাজিনের গুলি শেষ হয়ে গেলে আরেকটি ম্যাগাজিন ব্যবহার করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলি উদ্ধার করেছে।হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তল ও দুটি ম্যাগাজিনসহ আলামত জব্দ করে।
পুলিশের এর কর্মকর্তারা বলছেন, পিস্তল গুলি সরকারি কাজ ব্যতীত নিজ দায়িত্ব এলাকার বাইরে নিয়ে যাওয়ার কোনো নিয়ম নেই।
রবিবার রাতে তাঁকে কুষ্টিয়া ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র গণমাধ্যমকে জানান, আসমার আগে দুটি বিয়ে হয়েছিল। আসমার তৃতীয় স্বামী এএসআই সৌমেন রায়।র
বিন তাঁর দ্বিতীয় স্বামীর সন্তান। পাঁচ বছর আগে এএসআই সৌমেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। সৌমেন কয়েক মাস ধরে আসমাকে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ পরিবারের।
রোববার রাতে কুষ্টিয়া মডেল থানায় হাজির হয়ে নিহত আসমা খাতুনের মা হাসিনা খাতুন বাদী হয়ে এ হত্যা মামলা করেন। মামলায় পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) সৌমেনকে
একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
সোমবার দুপুর ১ টার দিকে কুষ্টিয়া মডেল থানা সূত্রে জানায়ায় ‘সন্ধ্যার পর আসমা খাতুনের মা হাসিনা খাতুন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন।
নির্ভোরযোগ্য সূত্রে জানায়ায় কুষ্টিয়া পর যেকোনো সময় আদালতে নেওয়া হবে। তাঁকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে
আজ সোমবার সকালে নিহত তিনজনের লাশ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। নিহত নারীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের পর নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে তাঁদের লাশ দাফন করা হবে।