
প্রকাশিত,১৯, জুন,২০২২
গাজীপুর প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরে একটি কারখানা কর্তৃপক্ষ বহুতল ভবন মালিককে সাড়ে সাত বছর ধরে ভবনের ভাড়া পরিশোধ না করে উল্টো ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার কারখানার সামনে মানববন্ধন করেছে ভবন মালিক ও তার পরিবারের স্বজনরা। এসময় এলাকার সাধারণ মানুষও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। ভবন মালিক মো. খোরশেদ আলম বলেন, তার পিতা মরহুম আবুল হোসেনের তিন ছেলে খোরশেদ আলম, জাহাঙ্গীর আলম ও খাইরুল ইসলাম ওই চারতলা ভবনের মালিক।
তাদের বাবা বেঁচে থাকা অবস্থায়ই ভাড়াটিয়া ‘নিট সিটি লি.’ প্রতিষ্ঠানের মালিক মীর নজরুল ইসলাম ১২ টাকা ফুট হারে ৩০ হাজার ৯০০ বর্গফুট ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮০০ টাকা এবং খালি জায়গায় ৩ হাজার ৯৩৪ বর্গফুট ৬ টাকা হারে ২৩ হাজার ৬০৪ টাকাসহ মোট ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ টাকা ভাড়ায় চুক্তি করেন।
তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ১০ মাস ভাড়া দেওয়ার পর তাদের বাবা আবুল হোসেন মারা যান। এরপর ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয় ওই কারখানা কর্তৃপক্ষ।
ভবন মালিকরা অভিযোগ করেন, ভাড়ার বিষয়ে কারখানা মালিক ভবনের ভাড়াটিয়া মীর নজরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিবার যোগাযোগ করলে তিনি হুমকি দিয়ে কারখানা থেকে বের দেন। একপর্যায়ে ভবন মালিক কর্তৃপক্ষের কাউকে কারখানার ভেতরে ঢুকতে নিষেধ করে দেন। তারা কারখানার ভিতর সশস্ত্র আনসার মোতায়েন করে।
বিষয়টি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী, বিজিএমইএ, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র, মেট্রোপলিটন পুলিশ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের কাছে সুবিচার চেয়ে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পায়নি। বর্তমানে জমিসহ ভবনটি হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে। মামলার ভয় দেখিয়ে কারখানা মালিক ভবন মালিককে তার জমির ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেনা। এছাড়া পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ভবন ভাড়া না পেয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তারা। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ভাড়া পাওনা রয়েছে।
পাওনা টাকা চাইলে তারা নানা টালবাহানা করেন। বর্তমানে কারখানটি মীর নজরুল ইসলামের পরিবর্তে তার ছোটভাই পরিচয়ে রিয়াজুল করিম (রিয়াজ) পরিচালনা করছেন।
নিট সিটি লিমিটেডের পরিচালক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ অভিযোগের বিষয়টি মিথ্যা বলে অস্বীকার করে বলেন, ভবন মালিক চুক্তিপত্র মোতাবেক একটি ফ্লোর তৈরি করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা তা করে না দেওয়ায় আমরা ভাড়া দেওয়া বন্ধ রেখেছি।
একটি ফ্লোর করে না দেওয়ার অভিযোগে পুরো বভনের ভাড়া কেন বন্ধ রেখেছেন এর সদোত্তর দিতে পারেনি কারখানা মালিক।