
প্রকাশিত,০৯, সেপ্টেম্বর,২০২২
নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধিঃ
এইচ এস সি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র থাকা অবস্থায় খাতা -কলম, বই-পত্র টেবিলের উপর রেখে এক কাপড়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার সশস্ত্র প্রতিবাদ করতে গারো পাহাড়ের পাদদেশে সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন, নকলার কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যারপ্রতিবাদ করতে গিয়ে অন্ধকার কারাগারে কেটেছে যৌবনের ৮ টি বছর।
শেরপুর জেলা নকলা উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ(জন্ম ১৯৫৬ সালের ২৮ শে এপ্রিল) ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ সপরিবারে নিহতের হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে দীর্ঘ ৮ টি বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্ধকার কারাগারে কেটেছে তার । তিনি তখন মুক্তিযুদ্ধ শেষে ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। কলেজের ছাত্রাবাস হোষ্টেলের পুকুরে গোসল করতে নেমে শুনলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ সপরিবারে নিহতের খবর। গোসল শেষ না করেই সেই হত্যার প্রতিবাদ শুরু করেন এরপর বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে প্রতিরোধ যুদ্ধের প্রস্তুতির সময় ১৯৭৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর শেরপুর জেলা র চান্দের কান্দা নামক স্থানে সেনাবাহিনীর হাতে আটক হন । এরপর তাকে শেরপুর,জামালপুর ও টাঙ্গাইল আর্মি ক্যাম্পে রাখা হয় ।
তারপর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ডি জি এফ আই অন্ধকার কারাগারে কেটেছে ৬ মাস ২৪ দিন এ সময় কখনো সূর্যের আলো দেখা মেলেনি বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল ইসলাম জিন্নাহ র । এরপর সেই সেলে চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন। তারপর ঢাকা জেলখানা থেকে বরিশাল,সিলেট,যশোর ,ময়মনসিংহ, জেলে কেটে যায় ৮ টি বছর। ১৯৮৪ সালের ১৬ এপ্রিল মুক্তি পান । এর আগে ১৯৮১ সালের নভেম্বরে বঙ্গবন্ধুর কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা জেলখানায় আটক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার প্রতিব সাথে ঢাকা জেলখানায় দেখা করেন ও সেই সাথে দ্রুত সময়ে জেল থেকে মুক্তির আশ্বাস দেন তিনি।
জেল থেকে মুক্তি পেয়ে নিজ নকলা উপজেলায় সরাসরি বঙ্গবন্ধু র রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও তৃণমূল পর্যায়ে দলকে এগিয়ে নেন। ২০১৬ সালে নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ ,বঙ্গবন্ধু র আদর্শে সোনার বাংলা গড়তে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। বিগত করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে নকলা উপজেলায় প্রতিটি গ্রামের অলিতে গলিতে মাইক নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ও সতর্ক করার জন্য সরকারের নির্দেশনা অনুসারে কাজ করেছে তিনি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ এখনো বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সভা সেমিনারে ১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা র প্রতিবাদ করতে গিয়ে কারাগারের অন্ধকার জীবনের কষ্টকর দিন নিয়ে স্মৃতি চারন করতে গিয়ে আজও চোখ পানিতে ভিজে যায়। যার ৭ই মার্চের ভাষনে উজ্জীবিত হয়ে জীবন ও যৌবনের মায়া ত্যাগ করে স্বাধীনতার মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা অর্জন করেছে । সেই মহা নায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে হত্যা র সাথে যারা জড়িত তাদের আজও খুঁজে বের করতে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এখনো প্রতিশোধের আগুনে উত্তপ্ত থাকে মন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ।
প্রতি বছর প্রতি বছর এই আগস্ট মাসে তার জীবনের সবচেয়ে কষ্ট ও বেদনা নিয়ে বিপন্নতায় দিন কাটে।