
প্রকাশিত,১৭, আগস্ট,২০২১
সজীব সরকার, মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ
আজ ১৬ আগষ্ট, ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার ঘোগা ইউনিয়নের শরশা গ্রাম বাসীর দীর্ঘ সময়ের দূর্ভোগের অবসান ঘটে। উক্ত গ্রামের কতিপয় অসাধু মাছ চাষীর নিজস্বার্থে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননে পানি আটকে দেওয়ায় পুরো গ্রাম বাসীর ফসলি জমি, রাস্তাঘাট নষ্ট সহ বছরের পর বছর ধরে অবর্ননীয় দূর্ভোগের অবসান ঘটেছে আজ মুক্তাগাছার এসিল্যান্ড ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে।
এসিল্যান্ড মাসুদ রানা সামাজিক মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের বিষয় টি বর্ননা করতে গিয়ে প্রকাশ করেন "ভারী বৃষ্টিপাতে পানি বাড়ছে। ধানের চারা রোপন করা কৃষিক্ষেতে পানি হচ্ছে । অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করে কেউ কেউ বৃষ্টির পানি আটকে দিয়েছেন।পানি নামতে না পেরে বৃষ্টির পানি ফসলি জমি/ রাস্তাঘাট নষ্ট করছে। পানি বসত বাড়িতেও উঠছে। এলাকাবাসীর অনুরোধ এবং চেয়ারম্যান সাহেবগণের অনুরোধ সত্ত্বেও পুকুর মালিকগণ পাড় কেটে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করছেন না।
লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। আমাকে দেখেই জনতার মধ্যে হতে একজন বলে উঠলেন আল্লাহর রহমতের মানুষ আসছে। এবার আমরা উদ্ধার হতে পারি কি না দেখি।
বুঝলাম অনেক কষ্টের বহিঃপ্রকাশ এটা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায় মাত্র ৪/৫ জন ব্যাক্তির কারণে ঘোগা ইউনিয়নের পুরো শশরা এলাকাবাসী ভুগছেন বছরের পর বছর। রাস্তাঘাটে পানি, বাড়ির উঠানে পানি, বাড়ি হতে বের হওয়ার রাস্তায় পানি। মূল রাস্তায় পানি জমে থাকে। ঘোগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহেব, সংশ্লিষ্ট মেম্বার ও এলাকাবাসী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
যারা পুকুর খনন করেছেন তাদের মধ্যে ২ জনকে পাওয়া গেল। এদের মধ্যে ১ জনকে পাড় কেটে দিয়ে পানি নিস্কাশনের আদেশ দিয়েছিলাম কয়েকমাস আগে। তিনি ছোট ২/১ টা পাইপ দিয়েই দায়িত্ব সেরেছেন এতে কোন উন্নতি হয়নি।
এ পুকুরমালিকদের পুকুর খননের ফলে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। চীনের দুঃখ হোয়াংহো, কুমিল্লার গোমতি নদী আর মুক্তাগাছার দুঃখ অপরিকল্পিত পুকর। পুকুর মালিকদের এরুপ কর্মকাণ্ড জনগণের মধ্য গণঅসন্তোষ সৃষ্টি করছে যা গণউপদ্রুবের সামিল।
প্রতিটা ইউনিয়নে এভাবে যাওয়া প্রায় অসম্ভব তাই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দরকার। এ অপরাধে কারাদন্ডের বিধান রয়েছে/ জরিমানাদন্ড। একজন আসামীকে গ্রেফতার করা হলো। ঠাই দাড়িয়ে থেকে পানি নিস্কাশনের জন্য পুকুরের পাড় কেটে দেয়ার ব্যাবস্থা করা হল।
অপরাধীর বয়স ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে তাকে ১০০০০ টাকার জরিমানাদন্ড আরোপ করা হল। নির্ধারিত মূল্যর স্ট্যাম্পে তিনি মুচলেকা দিলেন এমন অপরাধ তিনি ভবিষ্যৎতে করবেন না।
পুকুর মালিক ও অন্যান্য যারা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে রেখেছেন আপনাদের প্রতি আবারো সতর্কবার্তা জারি করা হল। ভ্রাম্যমান আদালতকে সহায়তা করেন মুক্তাগাছা থানা পুলিশ, ঘোগা ইউনিয়ন পরিষদ, স্থানীয় এলাকাবাসী। ধন্যবাদ সবাইকে। "
মুক্তাগাছা বাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এসিল্যান্ড মাসুদ রানা মুক্তাগাছায় যোগদানের পর থেকে বিগত ১ বছরে কয়েকশত কোটি টাকা মুল্যের সরকারি খাস জমি উদ্ধার, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান ও নানা জনদূর্ভোগ নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে এবং অল্পসময়েই সাধারণ মানুষের আস্থায় পরিনত হয়েছেন।