আলু চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষি।


দেশ সময় প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৩-৩১, ১১:৩১ অপরাহ্ন /
আলু চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষি।
print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর গলাচিপায় আলু চাষে কৃষকের মধ্যে আগ্রহ কমছে। ন্যায্য দাম না মেলা ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় লোকসান গুনতে গুনতে তারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এজন্য স্থানীয় উন্নত বাজার ব্যবস্থা না থাকাকেও দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে গলাচিপার চাষিরা প্রায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করেন। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৩৬০ হেক্টরে। চলতি ২০২৬ সালে মাত্র ২৬০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। যদিও এই বছর ৩৬৫ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল কৃষি বিভাগ।
কৃষকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, গলাচিপা উপজেলার মাটি ও ভৌগোলিক অবস্থান আলু চাষের উপযোগী। ৩৫-৪০ বছর আগে এ উপজেলায় আলুর আবাদ শুরু হয়। ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারে দাম মিলছিল বলে কৃষকদের মধ্যে আলু চাষে আগ্রহ বাড়তে থাকে।

উপজেলার যেসব এলাকায় আলুর বেশি আবাদ হয়, এর মধ্যে রয়েছে– সদর ইউনিয়নের মুরাদনগর, চরখালী, বোয়ালিয়া, পানপট্টি ইউনিয়নের উত্তর পানপট্টি, সতিরাম, দক্ষিণ পানপট্টি। কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রতি হেক্টরে তারা গড়ে প্রায় ২৫ টন আলু উৎপাদন করেন। তবে উন্নত বাজার ব্যবস্থা ও সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় উৎপাদিত আলু ধরে রাখতে পারছেন না। বাজারেও দাম মিলছে কম। ফলে বছরের পর বছর ধরে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে আলু চাষ করেন সদর ইউনিয়নের মুরাদনগরের কৃষক মো. হাফিজুর রহমান হাওলাদার। তাঁর ভাষ্য, চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে সার, সেচ, বীজ ও শ্রমিক বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। অথচ বাজারে প্রতি বিঘায় উৎপাদিত আলু বিক্রি করে দাম পাচ্ছেন ১৫-২০ হাজার টাকা। এতে লোকসান হচ্ছে ১০-১৫ হাজার টাকা।