
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপায় আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্প। এক সময় গ্রামগঞ্জের প্রতিটি হাট-বাজারে কামারদের ব্যস্ত উপস্থিতি দেখা গেলেও বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকজন কারিগরই টিকে আছেন। তবে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা এলেই আবারও প্রাণ ফিরে পায় এই শিল্প। কোরবানির পশু জবাইয়ের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তৈরির ব্যস্ততায় সরগরম হয়ে ওঠে কামারপল্লি।
ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে পৌর শহরের কামারশালাগুলোর কর্মব্যস্ততা। দিন-রাত সমান তালে চলছে হাতুড়ির টুংটাং শব্দ। কয়লার আগুনে তপ্ত লোহাকে পিটিয়ে তৈরি করা হচ্ছে দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতিসহ নানা ধরনের সরঞ্জাম।
কামাররা জানান, নির্মাণ শিল্পের প্রসারের কারণে লোহার চাহিদা বাড়ায় কাঁচামালের দামও কয়েকগুণ বেড়েছে। পাশাপাশি কয়লার সংকট, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লোহার তৈরি সরঞ্জাম উৎপাদন ও মেরামতের খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি বাহারি ডিজাইনের কারখানাজাত যন্ত্রপাতির প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে। ফলে আগের মতো আর চাহিদা নেই ঐতিহ্যবাহী কামারশিল্পের।
গলাচিপা পৌরসভার কামারশিল্পী আহোন কামার বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে এখন আমাদের সবচেয়ে বেশি কাজের চাপ। বিভিন্ন সাইজের দা ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, বঁটি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, হাসুয়া ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, ছুরি ১২০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং চাপাতি ৫০০ থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। লোহার মান অনুযায়ী দাম কম-বেশি হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আধুনিক যুগে আমাদের বাপ-দাদার এই ঐতিহ্যবাহী পেশা প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। আগে উপজেলায় অনেক কামার ছিল, এখন খুব কম মানুষ এ পেশায় টিকে আছে। কামারশালায় তৈরি জিনিসপত্রের ব্যবহার কমে যাওয়ায় নতুন প্রজন্মও এ পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছে।”