
প্রকাশিত,০২, নভেম্বর,২০২১
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
আজমিরীগঞ্জে পৌরসভার একটি জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা লেগেই আছে। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও অদ্যাবধি নিষ্পত্তি হয়নি। কার্লভার্ট রয়েছে, তবে পানি যাওয়ার কোন ব্যবস্হা নেই। এতে করে বাজার সংলগ্ন সরাপনগর ( গঞ্জেরহাটি) গ্রামের এ ছাড়া টানবাজার ও লালমিয়া বাজারের অধিকাংশ ভিটায় পানি উঠে যায়। এতে করে চরম ভূগান্তির শিকার হয় তারা। নিরসনের দাবি ছিল এলাকাবাসীর।
এরই ধারাবাহিকতায়, গতকাল মঙ্গলবার দুপুর অনুমানিক ২ টায় বাজারের ব্যবসায়ীমহলের একাংশ সংলগ্ন গ্রামের ভূক্তভুগী লোকজন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উদ্যোগে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। উক্ত সালিশ-বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালেহা সুলতানা সুমি। বৈঠকে জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ ৪ ফুট ৩ ইঞ্চি প্রশস্ত জায়গা নির্ধারণ করা হয়। এরমধ্যে সংলগ্ন নিখিল চন্দ্র বণিক ও দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র দাস প্রত্যেকে ১০ ইঞ্চি করে মোট ১ ফুট ৮ ইঞ্চি জায়গা জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ স্থাপনের জন্য জায়গা ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে উপজেলা চেয়ারম্যান মর্তুজা হাসান, ভাইস চেয়ারম্যান মমিনুর রহমান সজিব,উ,জে, আ,লীগের সা,সম্পাদক মনোয়ার আলী, পৌর কমিশনারববৃন্দ, স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য,
আজমিরীগঞ্জ পৌরসভাধীন সরাপনগর ( গঞ্জেরহাটি) গ্রামের বাসিন্দা স্বর্গীয় কালীপ্রসন্ন চৌধুরীর পুত্র নিহার চৌধুরী ও কমলেন্দু চৌধুরী রানা'র মালিকাধীন বসতভিটা সংলগ্ন কৃষিজমি বিগত ১৯৯৩ ইং সনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম হাফিজউদ্দিন হাফাই মিয়ার নিকট বিক্রি করে, পরিবার পরিজন নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাড়ি জমান। এক পর্যায়ে ওই কৃষিজমির অধিকাংশ জায়গা শতক হিসেবে এলাকার বিভিন্ন লোকজনের নিকট বিক্রি করে দেন।
একই সময়ে উপজেলা কমপ্লেক্স সংলগ্ন রাস্তা থেকে কাকাইলছেও-আজমিরীগঞ্জ রাস্তা পর্যন্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জগৎজ্যোতি দাস ( বীর উত্তম) বাইপাস সড়কটি নির্মাণ করা হয়। ওই সড়কের সরাপনগর ( গঞ্জেরহাটি) গ্রাম সংলগ্ন একটি স্হানে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি কার্লভার্টও নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ওই কার্লভার্টের নীচ দিয়ে পানি নিস্কাশিত হয়ে জলাবদ্ধতার নিরসন হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ওই কৃষিজমির ক্রেতারা ক্রয়কৃত জমিতে মাটিভরাট করে বসতভিটা তৈরি করে। ফলে মাটিিভর্তি হয়ে পানির সুষ্ঠু নিষ্কাশন ব্যবস্হা ব্যহত হয়, সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এতে করে বাজার সংলগ্ন সরাপনগর ( গঞ্জেরহাটি) গ্রামের, টানবাজার ও লালমিয়া বাজারের অধিকাংশ ভিটায় পানি উঠে ভূগান্তির সৃষ্টি হয়। তবে পানি নিষ্কাশনের জন্য আধা শতক জায়গা রয়েছে বলে জানা গেছে।
সংলগ্ন একটি বসতভিটায় নির্মিত পাকা দেয়ালের একাংশে ড্রেনের সীমানা চিহ্নিত করা হলেও অপর অংশে চিহ্নিত করা হয়নি।এরই ধারাবাহিকতায়, বিগত ৫/৬ মাস পূর্বে সরাপনগর ( গঞ্জেরহাটি) গ্রামের ভূক্তভুগী পরিবারের সদস্যরা জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌর প্রশাসক বরাবরে একটি আবেদন করে। এরই প্রেক্ষিতে এলাকার কতিপয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের উদ্যোগে একটি চিকন পাইপ স্হাপন করা হয়।
যা জলাবদ্ধতা নিরসনে কোন ভূমিকাই রাখছে না।
তাই প্রশস্ত পাইপ স্হাপনে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক অনুষ্টিত হলেও নিষ্পত্তি করা যায়নি।গত ০৩/০৯/২১ইং শুক্রবার দুপুরে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নূরুল ইসলাম, উপজেলা,আওয়ামী লীগের সা,সম্পাদক মনোয়ার আলী, উপজেলা,ভাইস চেয়ারম্যান মমিনুর রহমান, সজিব সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ আবারও উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরও জলাবদ্ধতা প্রসমনে প্রশস্ত পাইপ স্হাপনের জটিলতা নিরসন করা যায়নি। তবে দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি এলাকাবাসীর।