
প্রকাশিত,২২-১১-২০২০
জামিরুল ইসলাম জয়পুুরহাট জেলা প্রতিনিধি ঃ
এক সময় সংসারে অনেক কিছু ছিল। সচ্ছল সংসারে ভালোই সুখে শান্তিতে দিন পার করেছি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। এখন আমরা নিঃস্ব। সন্তানদের ভালো খাওয়াতে পারিনা, ছেঁড়া কাপড় পরিয়ে রেখেছি তাদের। এক বেলা খাওয়া হলেও অন্য বেলা না খেয়ে থাকতে হয়। লজ্জায় কাউকে বলতেও পারিনা।
কথাগুলো বলেন এক সময়ের জনপ্রিয় শিক্ষক রইচ উদ্দিনের স্ত্রী জয়নব খাতুন। তিনি আরো কোনো উপায় না পেয়ে শিক্ষক স্বামী আমার এখন একটি হোটেলে বয়ের কাজ করেন। অথচ নিজ হাতে তিনি শিক্ষা দিয়েছেন বহু ছাত্র-ছাত্রীকে। তারা এখন সমাজে প্রতিষ্ঠিত। জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার কানুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ছিলেন আমার স্বামী।
শিক্ষক রইচ উদ্দিন জানান, গত ২০১৮ সালের ২৪ মে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অর্থ সম্পদ তেমন না থাকলেও চাকরি জীবনে বেশ কিছু সঞ্চয়ও করেছিলেন। কয়েক বছর আগে বিদ্যালয় থেকে বাই-সাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘনায় তার বাম পা ভেঙে যায়। এর চিকিৎসায় খরচ করেন সঞ্চয়ের সব টাকা। শুধু তাই নয়, নিজের বসতভিটা পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়। শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও এক পা ছোট আর এক পা বড় হয়ে যায়, এতে ভালোভাবে হাঁটতে পারেন না।
অবসর গ্রহণের পর কর্মের জন্য পারি জমান রাজধানী ঢাকায়। চাকরি নেন একটি পলিথিন কারখানায়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার জন্য সেখানে বেশি দিন চাকরি করতে পারেনি তিনি। নিরাশ হয়ে ফিরতে হয় নিজ এলাকায়। জীবন জীবিকা চালাতে হোটেল বয় হিসেবে কাজ নেন জয়পুরহাট শহরের রেড প্লেস নামক চাইনিজ হোটেলে। খাবারের প্লেট ধোয়া, টেবিলে পানি দেয়া, গ্লাস পরিষ্কার, টিস্যু পেপার সরবরাহ করা তার কাজ। এ কাজে তিনি প্রতিদিন ১০০ টাকা পারিশ্রমিক পান। পরিবারে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্ত্রীসহ রয়েছে দুইটি মেয়ে সন্তান। অর্থের অভাবে ভর্তি করাতে পারেননি কোনো স্কুলে। জয়পুরহাট শহরের বিশ্বাস পাড়া এলাকায় ৯০০ টাকায় ভাড়া দিয়ে একটি ছোট্ট ঘরে বসবাস করছেন এক সময়ের জনপ্রিয় শিক্ষক রইচ উদ্দিন ওরফে টিপু।