
প্রকাশিত,১৭, জুন,২০২১
তপন দাস
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি ঃ
বয়সের ভাড়ে ন্যুজ্ব ও সঞ্চিত সম্পদ শেষ হওয়ায় অজানা আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন চাদঁমনির প্রতিষ্ঠাতা পিজিরুল আলম দুলাল হাজী।
সার্বক্ষণিক চিন্তায় মগ্ন থাকেন তার মৃত্যুর পর কি হবে এ প্রতিষ্ঠানটির। কে ধরবে এর হাল? তার স্বপ্ন কি স্বপ্নই থেকে যাবে। করোনাকালীন দুঃসময়েও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কষ্টের মধ্য দিয়েই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটি। চাঁদমনি এক অনাথ আশ্রমের নাম। অথচ যারা এ আশ্রমের
আশ্রীতা। তারা কেউ নিজেকে অনাথ মনে করেন না।ভালবাসার চাদঁরে পিতা মাতার ছায়া তারা সব টুকু এখানে পান।
নীলফামারীর জলঢাকা সদর থেকে ৮ কিঃমিঃ দুরে আঁকা বাঁকা পথের শস্য শ্যামলা সুন্দর সুফলার গ্রামটির নাম চাওড়াডাঙ্গী।আর এখানে অবস্থিত চাদঁমনি আশ্রমটি। যিনি এ প্রতিষ্ঠানটির নামকরন ও পরিচালনা করেন তিনি হলেন পিজিরুল আলম (দুলাল হাজী)। তিনি আবার সবার কাছে চাদঁমামা নামেও পরিচিত।
কর্মজীবনে তিনি উত্তরা ব্যাংকের এ জি এম ছিলেন এবং অবসরের টাকাসহ সারা জীবনের তিল তিল করে শ্রম দিয়ে সঞ্চিত অর্থটুকু ব্যয় করেছেন সমাজের ঝরে পড়া নানা বর্নের কন্যা শিশুদের মাঝে ।এর মধ্যে হরিজন পলীর মেয়েদেরও বুকে আগলে নিয়েছেন। সু- শিক্ষায় শিক্ষিত করছেন তিনি। মেয়েদের পড়ালেখার পাশাপাশি কবিতা আবৃতি, বিতর্ক প্রতিযোগীতা, মঞ্চ নাটক সহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন।
এছাড়াও দ্বি বার্ষিক মেলার আয়োজন করে থাকেন। যা চাঁদমনি মেলা নামে খ্যাত। প্রতিবছরের ২৭শে এপ্রিল জলঢাকা কালীগঞ্জের গণহত্যার শিকার শহীদ পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বাবা মোসলেম উদ্দিন মারা গেছেন অনেকদিন আগেই। মাও বেঁচে
নেই। দাম্পত্য জীবনে তিনি নিঃসন্তান। এক মাত্র সহধর্মীনী মোতাহারা আলম তিনিও তাকে ছেড়ে গেছেন ২০১০ইং সালে। শৈশবের দুলাল আজ সত্তোর্ধ্ব বৃদ্ধ।তবুও অলসতা নেই।
এখনো খোজঁ করে বেড়ান, কার বাড়ীতে খাবার নেই, কার মেয়ের যৌতুকের জন্য বিয়ে হচ্ছে না,বিনা চিকিৎসায় কে ভুগছে। এমনকি বাল্য বিবাহ রোধকল্পে প্রায় তিনি প্রশাসনের দরজায় কড়া নাড়েন।নিজ দায়িত্বে প্রায় দুইশ পরিবারের কন্যাদের বাল্য বিবাহ থেকে মুক্ত করেছেন। এই কার্যক্রমকে আরো দৃঢ়ভাবে কার্যকর করার জন্য প্রতিমাসে চাদঁমনি কন্যাদের নিয়ে একটি র্যালী বের হয় এবং এ র্যালীর শ্লোগান হলো বাল্য বিবাহ বন্ধ কর, বন্ধ করতে হবে।
দেশের উত্তর জনপদের ১৬টি জেলার মধ্যে অনাথ শিশুদের নিজ খরচে আগলে রেখেছেন এমন নজির নেই। ১৯৯৯ সালে মাত্র ৫জন অনাথ কন্যা শিশুকে নিয়ে তিনি এ প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে এর সংখ্যা ৫৫ জন (আবাসিক)।
এছাড়া এ কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন শিক্ষায় শিক্ষিত ও কর্মসংস্থান যোগান হয়েছে ৩০০ জন। অনাবাসিক রয়েছে ২৭ জন,এদের মধ্যে ১০জনই হরিজন পলীর মেয়ে। এবারে এইচ.এস.সি পরীক্ষায় আলো রানী নামে একজন হরিজন কন্যা তারই চেষ্টায় কৃতকার্য হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে আশ্রিত এইচ.এস সি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী নারজুমা আক্তার ঝরা, মারুফা আক্তার এরা বলেন, বাবার স্নেহে মায়ের আদরে আমাদেরকে লালন-পালন করে থাকে দুলাল মামা। কোনদিনই কোন কিছুর অভাব বুঝতে আমাদের দেয় না।
চাঁদমনি অনাথ আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা পিজিরুল আলম দুলাল সাহেব জানান,তিল তিল করে গড়ে ওঠা আমার আশ্রম সমাজের একটি দর্পন মাত্র। আমি চাই দেশের অবহেলিত অনাথ শিশুদের আশ্রয়স্থল হিসেবে সর্বত্র আমার চাঁদমনির মত আশ্রম গড়ে উঠুক। প্রতিষ্ঠানটির জন্ম লগ্ন থেকে এখানে এসএসসিতে পঞ্চাশ জন, এইচএসসিতে ত্রিশ জন এবং বিএ পাশ করেছে দুই জন জন। রিতা নামে একজন মাষ্টার্স করতে রংপুর কারমাইকেল কলেজে অধ্যায়নরত রয়েছে। বয়সের ভাড়ে ন্যুজ্ব ও সঞ্চিত সম্পদ শেষ হওয়ায় অজানা আশঙ্কায় দিন কাঁটাচ্ছেন।তিনি প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপারে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।