

প্রকাশিত,১৩,জানুয়ারি
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
পুরান ঢাকার বাবুবাজার সেতু এলাকা থেকে সদরঘাট যাওয়ার প্রধান সড়ক দুটি। একটি ইসলামপুর, অপরটি বাদামতলী সড়ক৷ বাদামতলী সড়কে এলোমেলোভাবে ফলবাহী কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক রাখায় যান চলাচল বন্ধ৷ শুধু কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক দাঁড় করিয়ে মালামাল নামানো নই, বরং গাড়ি রাস্তার মাঝে দাড় করিয়েই বেচাকেনা করা হয়।
জানা গেছে, বুড়িগঙ্গ নদীর তীর বাবু বাজার ব্রিজ ঘাট এলাকা থেকে সদরঘাট পর্যন্ত নদীর সীমানা ও রাস্তা দখল করে অবৈধভাবে ট্রাক স্ট্যান্ড গড়ে তুলেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ঢাকা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের আস্থাভাজন ফল ব্যবসায়ী করিম শেখ ওরফে বট করিম। আওয়ামিলীগ সরকার পতনের পর করিম শেখ দেশ থেকে পালালেও, আগের নিয়মেই চাঁদাবাজী অব্যাহত রেখেছে তারই আপন ছোট ভাই আফসার হাজী। প্রতিদিনই রাস্তা বন্ধ করে ফল বিক্রির গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখে সে।
আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী সেলিম এর ক্যডার বাহিনীর অন্যতম সদস্য হাজী আফসার সরকারি রাস্তার উপর একটি ট্রাক দিয়ে রাস্তা দখল করে ব্যবসা করছিলেন। এর ফলে বাদামতলীর রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং গাড়ি চলাচল ব্যাহত হয়। পাশেই অবস্থিত মিটফোর্ড হাসপাতাল, হাসপাতালের উদ্দেশ্যে যাওয়া মুমূর্ষু রোগীদের অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও অব্যাহত হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে হাজী আফসার, তার ছেলে মোঃ আল আমিন ও তার বিয়াই মনির হোসেন খান সহ ইয়াসিন (২৫), নাজমুল (৪৫) ও মিলন (৫০) সংগঠিত হয়ে ব্যবসাইদের উপর হামলা করে। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন বিনপি নেতা সোহেল আহমেদ ও আরও কয়েকজন প্রতিবাদকারী। হামলায় আহত সোহেল আহমেদ জানান, আফসার হাজীর রাস্তা দখল করে জনগণের ভোগান্তির সৃষ্টির বিষয়ে প্রতিবাদ করাতে আমাদের উপর হামলা করেছে তার ক্যাডার বাহিনী। আবার আমরা যারা আহত হয়েছি আমাদেরই হত্যা মামলা দেওয়ার ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে তিনি।
পরে কোতয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং ট্রাক দিয়ে রাস্তা দখল করার বিষয়টি দেখতে পান এবং দ্রুত ট্রাকটি সরিয়ে নেয়। ফলে রাস্তার যানজট দূর হয়ে এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয় । হামলা শিকার হওয়া বিনপি নেতা সোহেল কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
উল্লেখ্য হাজী আফসারের মিলন নামের একজন কর্মচারী উত্তররা ব্যাংকে কর্মরত অবস্থায় স্ট্রোক করে এবং পরে তাকে মিটফোর্ড হাসপাতাল নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই স্বাভাবিক মৃত্যুকে এখন পুঁজি করে হাজী আফসার ও তার বিয়াই মনির হোসেন খান সাধারণ ব্যাবসায়ী ও যারা তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে তাদের মিথ্যা হত্যা মামলা দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে হাজী আফসার বলেন,আমার মার্কেটের সামনেই আমি ট্রাক রেখে ফল নামাই। আমি কোন চাঁদাবাজির সাথে জড়িত না।রাস্তার পাশে জেডিতে ট্রাক রাখার জন্য বিআইডব্লিউটিএ থেকে ইরাজা নেওয়া হয়েছে এবং বৈধভাবেই ট্রাক রাখা হচ্ছে।


















আপনার মতামত লিখুন :