বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছিল বস্তাভর্তি বই, আটক করলো স্থানীয়রা।


deshsomoy প্রকাশের সময় : ২০২৪-০২-১৭, ৩:২০ অপরাহ্ন /
বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছিল বস্তাভর্তি বই, আটক করলো স্থানীয়রা।
print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,১৭, ফেব্রুয়ারি,২০২৪

হারুন অর রশিদ
সুন্দরগঞ্জ গাইবান্ধা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ভ্যানে করে চলতি শিক্ষা বর্ষের মাধ্যমিক স্তরের সরকারি বই বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় আটক করে স্থানীয়রা।

শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার চন্ডিপুর ফজলুল হক (এফ হক) উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে বইগুলো উদ্ধার করে ওই বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে সিলগালা করে রাখে পুলিশ।

জব্দকৃত বইগুলো সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ফজলুল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মাধ্যমিক শাখার বিভিন্ন শ্রেণির বই।

পুলিশ জানায়, সন্ধ্যার দিকে ভ্যান ভর্তি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বইগুলি বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। জনগণ তা আটক করে থানায় খবর দেয়। পুলিশ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের চৌরাস্তা মোড় থেকে বইগুলো উদ্ধার করে। পরে প্রতিষ্ঠানে নিয়ে গিয়ে একটি রুমে জব্দকৃত বইগুলো সিলগালা করে রাখেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. মমিন মিয়া বলেন, প্লাস্টিকের বস্তা ভর্তি এক ভ্যান বই সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শহরে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সাধারণ জনগণ টের পেয়ে ভ্যানটি আটক করেন। তখন ভ্যানচালকে বইগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, চন্ডিপুর ফজলুল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ মিয়া বই গুলো বিক্রির জন্য তার ভ্যান ভাড়া করছেন। পরে লোকজন থানায় খবর দিলে কঞ্চিবাড়ি পুলিশ তদন্ত থেকে পুলিশ এসে বইগুলো উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ মিয়া বলেন, ‘স্কুলের উন্নয়নকাজ করা হচ্ছে। টাকারও দরকার, তাই বইগুলো বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন আটক করেন। বইগুলো এখন প্রতিষ্ঠানেই আছে। তবে বই বিক্রির বিষয়টি সভাপতি ও অধ্যক্ষ স্যার জানেন।’

প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলার রহমান মাস্টার বলেন, ‘পুরাতন বইগুলো বিক্রির জন্য প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক নিয়ে যাচ্ছিল। যাওয়ার সময় লোকজন আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ নাকি বইগুলো প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখছেন। আমি এইটুকু শুধু শুনছি। তবে বিক্রির জন্য যে রেজুলেশন করা লাগে তা করা হয় নাই।’

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, ‘আমি বই বিক্রির বিষয়ে কিছু জানি না। আমার প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিজেই এগুলো গায়ের জোরে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ বিষয়ে আমার কোনো মতামত নাই।’

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুব আলম বলেন, উদ্ধারকৃত বইগুলো ওই প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষে সিলগালা করে রাখা হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসারের উপস্থিতিতে সিলগালা কক্ষটি খোলা হবে। তারপর কী ব্যবস্থা নিবেন ওনারাই ভালো জানেন।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল মমিন মণ্ডল বলেন, ‘জনতার হাতে আটক বইগুলি স্টোরেজ করতে বলেছি। আগামী রোববার বইগুলো দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ২০২৪ সালের বই বিক্রির সুযোগ নেই। তবে পুরাতন বই বিক্রি করতে হলেও গভর্নিংবডির অনুমতি নিতে হবে।’