বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয় কবে খুলবে?


deshsomoy প্রকাশের সময় : ২০২৩-১২-০৮, ৯:২৪ অপরাহ্ন /
বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয় কবে খুলবে?
print news || Dailydeshsomoy

২৮ অক্টোবর সংঘাতের পর ৪২ দিন ধরে বন্ধ বিএনপির গুলশানের রাজনৈতিক এবং নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের অধিকাংশ কার্যালয়। কিন্তু কবে খুলবে বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়? এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে দলটির নেতাকর্মীসহ রাজনৈতিক মহলে। যদিও এখনই এর উত্তর জানেন না কেউই?
বিএনপির অভিযোগ, পুলিশ তাদের কার্যালয় খুলতে দিচ্ছে না। কার্যালয়ের আশপাশে নেতাকর্মীরা গেলে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। কার্যালয় বন্ধ থাকার ফলে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
গত ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহাসমাবেশ করে বিএনপি। কিন্তু সেদিন মূল মঞ্চের বাইরে ঘটে হামলা ও সহিংসতার ঘটনা। ২৯ অক্টোবর হরতালের ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু এরপর থেকে নয়াপল্টনে আর কোন কর্মসূচি পালন করতে পারেনি দলটি। বরং বেশ কয়েকদিন কার্যালয়ের সামনের অংশ ‘ক্রাইম সিন’ হিসেবে ঘোষণা করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কার্যালয়ের চারদিকে এমন কী অলিগলিতেও জোরদার করা হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নাশকতার অভিযোগে কয়েকদিনের সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেফতার করা হয় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতাদের।
প্রধান কার্যালয় বন্ধ থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতেও বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে বিএনপির নীতি-নির্ধারকদের। একেকদিন একেক স্থান থেকে ভার্চুয়ালি সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচি ঘোষণা করছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও দফতরের দায়িত্বে থাকা নেতা রুহুল কবির রিজভী। গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই রাজপথেও নামছেন তিনি।

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বন্ধ ছিল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়। ১/১১ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দীর্ঘসময় অফিস খোলা যায়নি। ২০০৯ সালের পর একাধিকবার বিএনপির নয়াপল্টন অফিসে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ, গ্রেফতারও করা হয়েছিল দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতাদের। সেসময় ১-২ দিন বিএনপির কার্যালয় বন্ধ ছিল। সবশেষ গত বছরের ৭ ডিসেম্বর পুলিশ বিএনপির কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং বেশকিছু নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে। সে সময়ও ৪ দিন কার্যালয়টি বন্ধ ছিলো।

এ দিকে দশম দফা অবরোধ শেষে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এলাকা ছিল মোটামুটি ফাঁকা। সন্ধ্যার পর কিছুটা যান চলাচল বাড়ে ওই সড়কে। ওই এলাকার শপিংমল এবং কয়েকটি গাড়ির শোরুম খোলা রয়েছে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। নিচ তলায় থাকা বিএনপির বিভিন্ন সামগ্রী প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র বন্ধ। পাশে ভিক্টোরিয়ার সামনে পুলিশের অবস্থান। কার্যালয়ের সামনের ফুটপাতও বন্ধ।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়েও একজন নিরাপত্তাকর্মী ছাড়া দায়িত্বশীল কেউ যান না বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, সরকার আমাদের অফিস বন্ধ করেছে। পার্টি অফিসের আশপাশে কেউ গেলেও গ্রেফতার করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে চাইলেও অফিস খুলতে পারছি না। কিন্তু উল্টো মিথ্যা বলে সরকারের পুলিশ বলছে আমরা নাকি বন্ধ করে রেখেছি? চারপাশে তারা সবসময় পাহারা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা কার্যালয় খোলার চেষ্টা করব। সেই চিন্তাভাবনা আমাদের আছে।