জীবনের শেষ বেলায় আয়মন নেছা একটি ঘর চায়!


deshsomoy প্রকাশের সময় : ২০২৩-১০-০৭, ১০:১১ অপরাহ্ন /
জীবনের শেষ বেলায় আয়মন নেছা একটি ঘর চায়!
print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,০৭, অক্টোবর,২০২৩

খন্দকার জসিম উদ্দিন
নকলা উপজেলা প্রতিনিধিঃ

ঝুপড়ি ঘরে  মানবেতর জীবনযাপন করছেন বৃদ্ধা আয়মন নেছা(৭৫)। 

‘আমাকে দেখার কেউ নাই, আমারে একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দেবেন। একখানা ঘরের ব্যবস্থা করি দিলে আল্লাহ তোমারে ভাল করবে। কথাগুলো এক নিশ্বাসে বলেন  আয়মন নেছা।

শেরপুর  জেলার নকলা  উপজেলায় ৭ নং টালকি  ইউনিয়নের  ফুলপুর গ্রামে জরাজীর্ণ বসতঘরে মানবেতর জীবন-যাপন করছে অসহায় বৃদ্ধা মা ।

ভাঙা ঝুপড়ি ঘরে একটু বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে বিছানা ভিজে যায়। ভেজা বিছানায় বৃদ্ধা আয়মন নেছা  থাকেন।
বৃষ্টির পানি পড়ে ঝুপড়ি ঘরে মেঝে কাঁদা,ভিতরে লাকড়ি, রান্নার চুলা সব বৃষ্টির পানিতে ভিজে গেছে ।
চতুরদিকে পানি থাকায় ঘরে সাপ, সহ বিভিন্ন পোকা মাকড় বাসা বেঁধেছে।  কখন যে সাপের কামড়ে দংশিত হবে বলা যাচ্ছে না।

কথা হয় আয়মন নেছার সাথে, আকাশে মেঘ দেখলেই তার মন আঁতকে ওঠে। বৃষ্টিতে ঝুপড়ি  ঘরটি যেকোন মুহুর্তে  পড়ে যেতে পারে! এই ভয় তার মনে সব সময়। যেখানে তিন বেলা নিজের খাবার জোগার করায় দায় সেখানে নতুন ঘর নির্মাণ করা স্বপ্ন দেখা ছাড়া কিছুই না।

এলাকাবাসীর মতে আয়মন নেছার স্বামি কছিমদ্দিন মারা যাবার পর থেকে স্বামীর ভিটায় জায়গা হয়নি। এক সময় বিভিন্ন মানুষের রান্নাঘর স্কুলের বারান্দায় থাকতেন।
বর্তমানে ফুলপুর গ্রামের  জনৈক নুরেআলমের বাড়ির সামনে পতিত জমিতে ঝুপড়ি করে থাকেন।
আয়মন নেছার সাথে কথা বলে জানা যায়,সরকারি কোন ভাতা, এমনকি রেশনকার্ড পর্যন্ত পায় না।সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
৭ নং টালকি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বুলবুল আহম্মেদ  বলেন, এত অসহায় ভাবে জীবন যাপন করছে এই বিষয়টি কেউ আমাকে জানায় নি। আমি দ্রুত রেশন কার্ডের ব্যবস্থা করবো।
আয়মন নেছার ঝুপড়ি ঘর থেকে ৫০ গজ দূরে ১ নং ওয়ার্ড ফুলপুর গ্রামে ফরিদুল মেম্বারের বাড়ি।
ফরিদুল মেম্বার জানান,আয়মননেছার ভোটার আইডি কার্ড আমাকে দেয় নি তাই  তার নামে কোন ভাতা কার্ড করে দেওয়া সম্ভব হয় নি।
আয়মন নেছা বলেন,মেম্বার ফরিদুল আমাকে বিধবা ভাতা করে দিবে বলে ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে গেছে পরবর্তীতে বিধবা ভাতা কার্ড করে দেয় নাই এমনকি আইডি কার্ডও ফেরত দেয় না।

সরকার ভিক্ষুকদের তালিকা চেয়েছিল, সেখানেও কোন মেম্বার অথবা চেয়ারম্যান  আয়মননেছার নাম দেন নি। কারন হতভাগী  আয়মননেছার কথা কারো মনে ছিল না।

নকলা সমাজসেবা অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন,এনআইডি কার্ড হারিয়ে গেলেও ভাতা থেকে বঞ্চিত হবে না, এখন তো অনলাইন থেকে সকল তথ্য পাওয়া যায়,অসহায় আয়মননেছা সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত আপনার কাছ থেকে প্রথম জানতে পারলাম। তিনি আরও বলেন, আমি নিজ দায়িত্বে এই আয়মন নেছার বয়স্ক অথবা বিধবা  ভাতার ব্যবস্থা করবো।

ফুলপুর মধ্যপাড়া জামে মসজিদের মোয়াজ্জেম সুলতান আহাম্মেদ বলেন, হতদরিদ্র আয়মন নেছাকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার একটা বাড়ি দেওয়া উচিত ছিল।
ময়লা যুক্ত পানিতে বৃদ্ধা আয়মননেছার চলাফেরা করাতে পায়ে ঘা দেখা দিচ্ছে। বিছানায় পড়ে গেলে কে দেখবে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ভালো জানেন।
এলাকাবাসীদের  মতে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাছিনা গৃহহীনদের লক্ষ লক্ষ বাড়ি দিযেছেন, সেখানে এই হতদরিদ্র আয়মননেছার নামে একটা সরকারি ঘর হয় নাই।
আয়মন নেছা দেশ ও বিদেশের সকল  মানবিক মানুষের নিকট সাধ্য অনুযায়ী  একটি ছোট টিনের ঘর তৈরি করতে সাহায্যের আবেদন করেছেন।